Wednesday, May 10, 2017

বেশি ঘুম ""অন্ধত্বের ঝুঁকি""

বেশি ঘুমালে আপনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে। ব্রিটেনে অন্ধত্বের প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, যারা নিয়মিত ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চোখের জ্যোতি কমে যাবার প্রবণতা বেশি। মূলত এ সমস্যাটা ৬০ বছর বয়সের পর থেকে বেশি হয়।
পরিমাণের তুলনায় বেশি ঘুমানোর কারণে চোখে ব্যথা কিংবা চোখে বিভিন্ন উপসর্গও দেখা দিতে পারে। নর্দান ক্যালিফোর্নিয়ার রেটিনা ভিট্রিয়াস এ্যাসোসিয়েটসের ডাক্তার রাহুল এন খুরানা প্রায় ১ হাজার জনের ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তির আলাদা আলাদা ঘুমের সময়ের ওপর ভিত্তি করে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমায় তাদের চোখের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে তত বেশি কমে আসে।
এ ধরনের বিভিন্ন গবেষণার পর ডাক্তাররা বলছেন, অতিরিক্ত ঘুমও আপনার ভবিষ্যত অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ঘুমের কারণে চোখে গ্লুকোমা নামক একটি রোগ হয়। চোখের অক্ষিস্নেহ নামে একটা তরল পদার্থ সঠিকভাবে চলাচলে ব্যর্থ হবার ফলে অপটিক নার্ভের ওপর চাপ পড়ে এবং এই নার্ভের তন্তুগুলো আস্তে আস্তে মরে যেতে থাকে এবং তখনই গ্লুকোমা রোগটি দেখা দেয়। যার ফলশ্রুতিতে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো ভয়ঙ্কর বিপদ হতে পারে। ওয়েবসাইট অবলম্বনে।
ゟ'♚

Tuesday, May 9, 2017

""ডায়াবেটিস নিউরোপ্যাথি"" চিকিৎসার কার্যকারিতা

সাধারণত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাত ও পায়ের শেষভাগের স্নায়ুগুলো ক্রমে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে তারা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগে থাকেন। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত ও পায়ের শেষভাগে অনুভূতি কমে যেতে থাকে, যা রোগীর জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমনÑ অনেকের পায়ের অনুভূতি এত কমে যায় যে, পা কেটে রক্ত বের হলেও তিনি তা বলতে পারেন না।
লক্ষণগুলো : হাত-পা ঝিনঝিন করে, হাত-পায়ের শক্তি কমে যায়, হাত ও পায়ের মাংসপেশি শুকিয়ে যায়, হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয় ইত্যাদি। চিকিৎসা : প্রথমেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। দ্বিতীয়ত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে হাত ও পায়ের মাংসপেশির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা। এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করা।
ব্যায়ামের উপকার : ব্যায়ামে শক্তি খরচ হয়। ফলে শরীরের ওজন কমতে থাকে, শরীরের চর্বি কমে যায়। ব্যায়ামের মাধ্যমে পেঙ্কিয়াসের বেটা সেল থেকে ইনসুলিন তৈরি বৃদ্ধি পায়। ব্যায়াম ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ফলে শরীরে অল্প যা ইনসুলিন তৈরি হয়, তাতেই রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। বাড়তি ওষুধের দরকার না-ও পড়তে পারে। ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। ডায়াবেটিসের জটিলতা কমানো সম্ভব হয়। ব্যায়াম রক্তের ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। উচ্চরক্তচাপ কমায়। দুশ্চিন্তা দূর করে মন প্রফুল্ল রাখে। হাড় ও হৃৎপি- শক্তিশালী করে। জয়েন্টগুলো সচল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
লেখক : বাতব্যথা, প্যারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

অসংখ্য রোগের জীবাণুর বাহক হলো তেলাপোকা!



তেলাপোকা অনেক রোগের বাহক। বিভিন্ন ধরনের পেটের পীড়া, আমাশয়, ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, পলিওসহ আরও অসংখ্য রোগের জীবাণুর বাহক হলো তেলাপোকা!
তেলাপোকা উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে থাকতে বেশি পছন্দ করে। রান্নাঘরের বেসিনের নিচে, ময়লার বালতিতে, খাবার রাখার আলমারির (মিটসেফ) জিনিসের ফাঁকে ফাঁকে তেলাপোকা থাকতে পছন্দ করে বেশি। এ ছাড়া আরও থাকে বাথরুমের প্যানের গভীরে, বাসাবাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া মলের বা ময়লার পানির পাইপে। থাকে যে কোনো অন্ধকার লুকোনো স্থানে। এসব জায়গা থেকে রাতের আঁধারে বের হয়ে আসে।
তেলাপোকা মূলত সর্বভুক। তবে কাবারের উচ্ছিষ্টের ময়লা আবর্জনা আর বাথরুমের ময়লাই এদের প্রিয় খাবার। এসব ময়লা আবর্জনা থেকে এদের গায়ে লেগে যায় বিভিন্ন ধরনের জীবাণু। পেটের ভেতরেও ঢুকে যায় অজস্র। তারপর যখন কোনো খাবারের ওপর বসে, তখন তেলাপোকার পা, পাখা, শরীর থেকে খাবারের লেগে যায় অসংখ্য জীবাণু। তা ছাড়া খাবারের ওপর ঘোরাফেরা করার সময় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি খাবারের ওপর মলত্যাগ আর বমিও করে তেলাপোকা। তেলাপোকার এসব মল আর বমির মাধ্যমেও কাবারে মিশে যায় হাজারো জীবাণু। জীবাণুমিশ্রিত এসব দূষিত খাবার খেলেই হয় আমাদের বিভিন্ন ধরনের অসুখ। এ ছাড়া ঘরের ধুলাবালিতে মিশে থাকা তেলাপোকার শুকনো মল হতে পারে হাঁপানির কারণ।
পরিত্রাণের উপায় : রাতে খাবার টেবিলে যেন খাবারের উচ্ছিষ্ট না থাকে। পরদিন সকালে ধোয়ার আশায় বেসিনে যেন রাতভর এঁটো থালাবাসন না থাকে। তেলাপোকা লুকিয়ে থাকতে পারে, এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। রান্নাঘরের মেঝে ও বেসিন রাখতে হবে ঝকঝকে তকতকে। ময়লার বালতি ঢেকে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। রান্নাঘরের দা, বঁটি, কাটিং বোর্ড ধুয়েমুছে পরিষ্কার রাখতে হবে। মিটসেফ পরিস্কার করতে হবে প্রতি সপ্তাহে। বাথরুম রাখতে হবে পরিষ্কার। টেবিলের ড্রয়ার, খাটের বাক্স ইত্যাদি প্রতি সপ্তাহে নজরদারি করতে হবে। রাতে বাড়তি খাবার রাখতে হবে ফ্রিজে। বাইরে রাখলে অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। বেশি উপদ্রব হলে তেলাপোকা মারার চক বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করতে হবে মাঝে মধ্যে।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল
কলেজ, ময়মনসিংহ

Monday, May 8, 2017

"সজনে ডাঁটার" পুষ্টিগুণ


Health care smartsector

বাজার উঠতে শুরু করেছে সজনে ডাঁটা। সবজি হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। সজনের ডাঁটা শুধু নয় এর পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়। এটি গরমে রসনায় তৃপ্ত করেও এর বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা আমাদের অনেকেরই অজানা। সজনে সবজি হিসেবে যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় ঔষধি গুণের জন্য।  
১. বাতের ব্যথা উপশমেঃ
বাতের ব্যথা উপশমে সজনে গাছের ছাল বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতি বেশ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। সজনে গাছের ছাল তুলে তা বেটে রস চিপে নিয়ে এই রস নিয়মিত প্রতিদিন ৪-৬ চা চামচ খেলে বাতের ব্যথা প্রায় ৬৫% উপশম হয়।
২. পেটের সমস্যা সমাধানেঃ
বহুকাল আগে থেকে সজনে হজমের সহায়ক খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পেটে গ্যাস হলে, বদহজম হলে এবং পেটে ব্যথা হলে সজনের তৈরি তরকারীর ঝোল খেয়ে নিন। দেখবেন পেটের গোলমাল অনেক উপশম হয়ে গিয়েছে।
৩. উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণেঃ
সজনে ডাঁটা খাওয়া উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। সজনে দেহের কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসায় সজনের পাতাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সজনের পাতার (কচিনয়) রস প্রতিদিন নিয়ম করে ৪-৬ চা চামচ খেলে উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।
৪. দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায়ঃ
অনেক সময় দাঁতের মাড়ির সমসসায় ভুগে থাকেন অনেকে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়া এবং মাড়ি ফুলে যাওয়া সমস্যায় ইদানীং অনেককে পড়তে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে সজনে পাতা। সজনে পাতা ১/২ মগ পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভালও করে প্রতিদিন কুলকুচা করতে হবে। এতে মাড়ির সকল সমস্যার সমাধান হয়।
৫. টিউমার বা আঘাত জনিত ফোলা উপশমেঃ
টিউমার যখন একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তখন সজনের পাতা এই টিউমার নিরাময় করতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় টিউমার ধরা পরলে তাতে সজনে পাতা বেটে প্রলেপের মতো ব্যবহার করলে টিউমারের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যথা বা আঘাত পেলে দেহের কোনো অংশ ফুলে উঠলে একই উপায়ে তা নিরাময় করা সম্ভব।
৬. হেঁচকি ওঠা উপশমেঃ
হেঁচকি ওঠা যে কতো কষ্টের তা যারা ভুক্তভোগী তারা ঠিকই জানেন। একবার হেঁচকি উঠা শুরু করলে তা বন্ধ হতে চায় না সহজে। কিন্তু সজনে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বেশ সহজে। সজনে পাতার রস ৯/১০ ফোঁটা আধ গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে পান করে ফেলুন এক নিঃশ্বাসে। দেখবেন হেঁচকি ওঠা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।

Saturday, May 6, 2017

চিকিত্সা ও প্রতিরোধে করণীয় ভাইরাল "হেপাটাইটিস "

Health care smartsector



ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা এবং এইচআইভি-এইডস-এর ন্যায় ভাইরাল হেপাটাইটিসও প্রতি বছর অনেক মানুষের অসুস্থতা এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী। 
প্রধানত যে ভাইরাসগুলো দিয়ে লিভারের প্রদাহ হয় সেগুলো হলো— হেপাটাইটিস ‘এ’, হেপাটাইটিস ‘সি’, হেপাটাইটিস ‘ডি’ এবং হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস। তন্মধ্যে ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস সাধারণত স্বল্প মেয়াদী লিভার প্রদাহ করে। এরা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। ‘বি’, ‘ডি’ ও ‘সি’ ভাইরাস সাধাণত দীর্ঘ মেয়াদী লিভার প্রদাহ করে। এরা ছড়ায় দূষিত রক্ত গ্রহণ, দূষিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, নাপিত কর্তৃক ক্ষুরে দূষিত ব্লেড ব্যবহার, অপরিশোধিত যন্ত্রপাতি দিয়ে অস্ত্রপ্রচার, আক্রান্ত মা থেকে শিশুকে এবং আনপ্রোটেক্টড সেক্স-এর মাধ্যমে। 
বিশ্বে একিউট ভাইরাল হেপাটাটিস-এর আক্রান্ত রোগীদের ৩০ শতাংশ-এর রক্তে হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাস পাওয়া যায় এবং আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রতি বছর ২ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ লক্ষ রোগীর লিভার প্রদাহজনিত লক্ষণ দেখা দেয় এবং প্রায় ৫৬ হাজার ব্যক্তি হেপাটাইটিস ‘ই’ জনিত ফালমিনেন্ট হেপাটিক ফেইলিওর হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রায় ০.২ থেকে ১ শতাংশ মানুষ তাদের লিভারে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস বহন করছে। উল্লেখ্য, হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস আমাদের দেশে যথাক্রমে ৬০ ও ৩০ শতাংশ লিভার সিরোসিস এবং যথাক্রমে ৬৪ ও ১৭ শতাংশ হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা (লিভার ক্যান্সার)-এর রোগীর জন্য দায়ী। একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস বা স্বল্পমেয়াদী লিভার প্রদাহের প্রধান লক্ষণগুলো হলো— জন্ডিস, খাবারে অরুচি, উপরের পেটের ডান দিকে বা মাঝখানে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি, দুর্বলতা ও জ্বর। 
অন্যদিকে ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস তথা দীর্ঘ মেয়াদী লিভার প্রদাহে ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় লিভারের কোষে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা ও পেটে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কিন্তু যাদের ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস থেকে লিভার সিরোসিস হয়ে যায় তাদের ক্ষুধামন্দা, পেটের অসুখ, শরীর শুকিয়ে যাওয়া, জন্ডিস, পেটে পানি আসা ও চেতনালোপ জাতীয় লক্ষণ দেখা দেয়।
হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস জনিত দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের চিকিত্সায় চিকিত্সাবিজ্ঞান প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের চিকিত্সায় প্রথম আবিষ্কার হয় ইন্টারফেরন নামক ইঞ্জেকশন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বেশ কয়েকটি মুখে খাওয়ার ওষুধ আবিষ্কার হয় যা এখন সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে। হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের চিকিত্সায় আগে শুধু ইন্টারফেরন ব্যবহার করা হত। তবে ২০১৫ সাল থেকে অনেকগুলো নতুন এন্টিভাইরাল ওষুধ বাজারজাত হওয়ায় অনুমতি পেয়েছে যেগুলো মুখে সেবন করা যায় এবং যার সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। আমাদের জন্য খুশির খবর হল বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসের চিকিত্সায় ব্যবহূত সবগুলো ওষুধ কার্যকর।
লিভার রোগের চিকিত্সায় ব্যবহূত ওষুধগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত রাখা সকল শ্রেণির মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার চেষ্টা করা এবং হেপাটাইটিস প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ: জনসচেতনতা তৈরি, হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের নিশ্চয়তা প্রদান, যে বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী এখনো হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের টিকা নেয়নি তাদেরকে টিকা দেয়ার পদক্ষেপ হিসেবে প্রাথমিকভাবে যারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ যেমন: স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিত্সক, সেবিকা ও হেলথ টেকনেসিয়ানদের টিকা দেয়া নিশ্চিত করা। 
২০০৩ সালের পূর্বে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের টিকার আওতায় আনার জন্য স্কুলের সেকেন্ডারি লেভেল থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত হেপাটাইটিস ‘বি’ স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম আয়োজন করার মাধ্যমে যাদের শরীরে হেপাটাইটিস বি নেই এবং বি ভাইরাসে বিপরীতে এন্টিবডিও নেই তাদের বি ভাইরাসের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা এবং এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতা নেয়া।
(লেখক: লিভার বিশেষজ্ঞ)

Wednesday, May 3, 2017

যাচাই করে নিন আপনার স্বাস্থ্য

কাজের চাপ বেড়েছে। খাবার বা ঘুমে কি অনিয়ম চলছে? তাহলে আপনার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। তার আগে একটা কুইজে অংশ নিয়ে নিজেই দেখে নিন আপনি কতটা সুস্থ।
১. আপনি ধূমপান করেন?
ক. প্রতিদিন (-১০)
খ. মাঝেমধ্যে (-৭)
গ. খুব কম (-২)
ঘ. কখনো না (৩)
২. কখন কি অ্যালকোহলে আসক্ত?
ক. প্রতিদিন (-১০)
খ. মাঝেমধ্যে (-৭)
গ. খুব কম (-২)
ঘ. কখনো না (৩)
৩. আপনি কতটা চিনি খান?
ক. অনেক (-১০)
খ. অল্প অল্প (-৩)
গ. খাই না (৩)
৪. আপনি কতবার প্রক্রিয়াজাত করা মাংস খান?
ক. প্রতিদিন (-৭)
খ. সপ্তাহে দুই-তিনবার (-৫)
গ. সপ্তাহে একবার (০)
ঘ. খাই না (৩)
৫. আপনি কতটা সবজি খান? (কাঁচা, রান্না বা আধসেদ্ধ)
ক. প্রতিদিন তিনবার (৩)
খ. দিনে দুবার (২)
গ. দিনে একবার (১)
ঘ. খুবই কম (০)
৬. আপনি দিনে আট ঘণ্টা ঘুমান?
ক. প্রতিদিন (৩)
খ. মাঝেমধ্যে (২)
গ. খুবই কম (১)
ঘ. একদমই না (০)
৭. আপনি শরীরে শক্তি পান?
ক. প্রতিদিন (৩)
খ. কখনো কখনো (২)
গ. কম পাই (১)
ঘ. পাই না (০)
৮. আপনি কতটা সময় না খেয়ে থাকেন?
ক. সপ্তাহে একবার (৩)
খ. মাসে একবার (২)
গ. কখনো না (০)
৯. দিনে কতটা তাজা ফলমূল খান?
ক. ৩-৪টা (৩)
খ. ২-৩টা (২)
গ. ১-২টা (১)
ঘ. একটাও না (০)
১০. প্যাকেটজাত করা খাবার দিয়ে নাশতা করেন?
ক. প্রতিদিন (-৫)
খ. সাপ্তাহিক ছুটির দিন (-২)
গ. যখন আপনার কাজে দেরি হয় (-১)
ঘ. কখনো না (৩)
১১. আপনার শারীরিক ব্যায়ামের ধরন কেমন?
ক. প্রতিদিন (৩)
খ. মাঝেমধ্যে (২)
গ. ছুটির দিনে (১)
ঘ. করি না (০)
১২. মেডিটেশন করেন?
ক. প্রতিদিন (৩)
খ. এক দিন পর এক দিন (২)
গ. সপ্তাহে একবার (১)
ঘ. কখনো না (০)
১৩. সূর্যের আলো থাকতে বাইরে যান কতটা?
ক. প্রায়ই (৩)
খ. মাঝেমধ্যে (২)
গ. যাই না (০)
১৪. আপনি সালাদ খান?
ক. প্রতিবেলা (৩)
খ. দিনে একবেলা (২)
গ. শুধু ভারী খাবার খেলে তখন (১)
ঘ. না (০)
১৫. আপনি ঠিকভাবে দৈনিক রুটিন মেনে চলেন?
ক. প্রতিদিন (৩)
খ. জোরালোভাবে হয় না, তবে চেষ্টা করি (১)
গ. না (০)
১৬. আপনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন?
ক. হ্যাঁ (৩)
খ. না (-৩)
এবার আপনার দেওয়া উত্তরগুলোর পাশে থাকা নম্বর যোগ করুন। তারপর বুঝে নিন আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা।
আপনার নম্বর যদি ০ থেকে ১০ পর্যন্ত হয়: আপনি অসুস্থ ও দুর্বল। আপনার বেশি করে সবুজ শাকসবজি খাওয়া দরকার। শারীরিক পরিশ্রম বা শরীরচর্চায় মন দিন। ঠিকমতো ঘুমাতে চেষ্টা করুন। আপনি যত দ্রুত সম্ভব ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ কমিয়ে দিন।
নম্বর যদি কমপক্ষে ১১ থেকে ১৯ হয়: আপনি সুস্থ, তবে আপনাকে ভালো থাকতে জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।
আপনার নম্বর যদি ২০ থেকে ৪৮ হয়: অভিনন্দন। আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ। চালিয়ে যান।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবপ্টিকাস মশার কামড়ে " চিকুনগুনিয়া রোগ "

ইদানীং অনেক রোগী প্রায়ই অভিযোগ করছেন, তাঁদের ভাইরাস জ্বর বা ডেঙ্গু জ্বর হয়েছিল, কিন্তু জ্বর সেরে গেলেও শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। সাধারণত যেকোনো ভাইরাস বা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যান। অথচ দেখা যাচ্ছে জ্বর ছেড়ে গেলেও রোগী আরও কিছুদিন অসুস্থ ও দুর্বলবোধ করছেন, বিশেষ করে শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা কিছুতেই যাচ্ছে না বা দুর্বলতা, ক্লান্তি কাটছে না। আসলে ডেঙ্গু হিসেবে সন্দেহ করা হলেও এ রোগটি সম্ভবত ডেঙ্গু জ্বর নয়; বরং অন্য একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যাকে বলে চিকুনগুনিয়া।
চিকুনগুনিয়া কী?
চিকুনগুনিয়া রোগটি ভাইরাসজনিত। আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গুর সঙ্গে এর অনেকটাই মিল রয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরের মতোই এই ভাইরাসটি এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবপ্টিকাস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানব শরীরে প্রবেশ করে। চিকুনগুনিয়া মানবদেহ থেকে মশা এবং মশা থেকে মানবদেহে ছড়িয়ে থাকে। মানুষ ছাড়াও বানর, পাখি, তীক্ষ্ণ দন্ত প্রাণী যেমন ইঁদুরে এই ভাইরাসের জীবনচক্র বিদ্যমান।
লক্ষণ
চিকুনগুনিয়ার মূল উপসর্গ হলো জ্বর এবং অস্থিসন্ধির ব্যথা। শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে প্রায়ই ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায়, তবে কাঁপুনি বা ঘাম দেয় না। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, গায়ে লাল লাল দানার মতো র‍্যাশ, অবসাদ, অনিদ্রা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, এমনকি ফুলেও যেতে পারে। তীব্র অবসাদ, পেশিতে ব্যথা, অস্থিসন্ধির ব্যথা ইত্যাদি জ্বর চলে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমনকি মাসের পর মাসও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা প্রদাহ থাকতে পারে; যা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে স্বাভাবিক কাজ করতে অক্ষম করে তোলে। রোগী ব্যথায় এতই কাতর হন যে হাঁটতে কষ্ট হয়, সামনে বেঁকে হাঁটেন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
চিকুনগুনিয়া সন্দেহ হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে রোগীর রক্তে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা হয়। এতে ২ থেকে ১২ দিন লাগতে পারে।
চিকিৎসা
অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতো এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এর চিকিৎসা মূলত রোগের উপসর্গগুলো নিরাময় করা। রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে এবং প্রচুর পানি বা অন্যান্য তরল খেতে দিতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। এর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। তীব্র ব্যথার জন্য অন্য ভালো ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। রোগীকে আবার যেন মশা না কামড়ায় এ জন্য তাঁকে মশারির ভেতরে রাখাই ভালো। কারণ আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড় দিয়ে কোনো সুস্থ লোককে সেই মশা কামড়ালে ওই ব্যক্তিও এই রোগে আক্রান্ত হবেন।
প্রতিরোধ
চিকুনগুনিয়া জ্বরের কোনো প্রতিষেধক নেই, কোনো ভ্যাকসিন বা টিকাও নেই। তাই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো এডিস মশা প্রতিরোধ। এডিস মশার উৎপত্তি স্থল ধ্বংস করা এবং মশা নির্মূল করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাসাবাড়ির আশপাশে যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, তা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ডাবের খোসা, কোমল পানীয়ের ক্যান, ফুলের টব—এসব স্থানে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দরজা-জানালায় নেট লাগানো, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার। জেনে রাখা ভালো, এডিস মশা মূলত দিনের বেলা এবং ঘরের বাইরেই বেশি কামড়ায়।
চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জেনেনিন
* চিকুনগুনিয়া রোগটি এডিস মশার কামড় থেকেই হয়। তাই মশা থেকে দূরে থাকুন।
* সন্তান মায়ের দুধ পান করলে সাধারণত চিকুনগুনিয়া হয় না। তাই আক্রান্ত মায়েদের চিন্তিত হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই।
* চিকুনগুনিয়া হয়েছে এটা বোঝার উপায় হলো জ্বর, মাথায় যন্ত্রণা, সারা শরীরে ব্যথা এবং গিরায় গিরায় খুব বেশি ব্যথা হয়। ডেঙ্গুর মতোই গায়ে অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো র‍্যাশ হয়। তবে রক্তক্ষরণ একেবারেই হয় না, রক্তের প্লাটিলেটও কমে না।
ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

কাঁচা মরিচের রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা

তরকারিতে স্বাদ বাড়াতে কাঁচা মরিচের জুড়ি নেই। কেউ কেউ আবার খাবারের সময় অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ নিয়ে রুচিসহকারে খেতে থাকেন। তাঁদের জন্য আরও সুখ...