Monday, November 23, 2015

ব্যথা-বেদনা 'বার্ধক্যে'


বার্ধক্য কোনো রোগ নয়। এটা জীবনের একটি প্রক্রিয়া। জন্মাইলে মরিতে হবে যেমন সত্য, তেমনি বেঁচে থাকলে বার্ধক্যে আসবে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে যার ফলে বয়স্ক ব্যক্তি বা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বেড়েছে। এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় রোগে আক্রান্ত। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে যেমন চুল পেকে যায় তেমনি হাড়ের ক্ষয়ও বৃদ্ধি হতে থাকে। বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপোজ পরবর্তীতে হাড়ের ক্ষয় দ্রুত হতে থাকে। এ হাড়ের ক্ষয় ছাড়াও জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির অভ্যন্তরীণ উপাদান যেমন- সাইনোভিয়াল ফ্লুইডও কমে, যার ফলে শরীরের জয়েন্টগুলো ব্যথা-বেদনা দেখা দেয়। বিশেষ করে মেরুদণ্ড, ঘাড়, কোমর, হাঁটু, কাঁধ ইত্যাদিতে বেশি ব্যথা দেখা যায়। যা মেডিকেল পরিভাষায় স্পনডাইলোসিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপরোসিস ইত্যাদি এবং এ ব্যথার ফলে রোগীর ব্যক্তিগত কাজকর্ম বা ডেইলি এক্টিভিটিজগুলোও করতে পারে না। 


যেমন- বসা থেকে উঠতে পারেন না, নিচে বসতে পারেন না, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন না, টয়লেটে বসতে পারেন না ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। এ সমস্যাগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে কমিয়ে এনে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করা সম্ভব এবং পাশাপাশি রোগীর মাংসপেশির শক্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে বার্ধক্যজনিত ব্যথা-বেদনা কমিয়ে ব্যথা-বেদনামুক্ত সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

ডা. এম ইয়াছিন আলী
চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসাপাতাল 

আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি


আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি বলতে অ্যামিবা যা এককোষী পরজীবী বা প্যারাসাইট এবং সিগেলা (shigella) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা মানবদেহের পরিপাক তন্ত্রে (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল) বাসা বেঁধে ঘা বা ইনফেকশন সৃষ্টি করে মলের সঙ্গে পেটে কামড়ানোসহ পিচ্ছিল আম অথবা শ্লেষ্মাযুক্ত রক্ত যাওয়াকে বোঝায়। 
‘আধুনিক প্রযুক্তিতে কয়েকটি ভাইরাস, ছত্রাক ও কৃমি জাতীয় জীবাণুও আমাশয় সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে’
আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি অতি পরিচিত রোগ। বিভিন্ন কারণে এ রোগ হয়।
আমাশয়ের কারণ
এই রোগে আক্রান্ত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক ধরনের লোক আছে যারা ডাক্তারের কাছে এসে বলে, ‘আমার ক্রনিক ডিসেন্ট্রি। ১০ বছরের বা ১২ বছরের ডিসেন্ট্রি।’
যদি কারও বারবার পায়খানা হয়। পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত বা মিউকাস যায়, তখন আমরা একে বলি আমাশয়। আমাশয় প্রধানত দুই ধরনের-
* এমোবিক ডিসেনট্রি
* বেসিলারিক ডিসেনট্রি
এ আমাশয় দীর্ঘ মেয়াদি নয়। এগুলো স্বল্প মেয়াদির আমাশয়। তিন থেকে সাত দিনের হয়ে থাকে। চিকিৎসা না করা হলেও চলে যেতে পারে। তবে জোরালোভাবে যদি রোগী আক্রান্ত হয় তাহলে চিকিৎসা করা দরকার এবং পাঁচ থেকে সাত দিনের ভেতর ভালো হয়ে যাবে।
আরেক ধরনের মানুষ আমাদের দেশে আছে। যারা বলে, ‘আমার তো ক্রনিক ডিসেনট্রি।’ যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, ক্রনিক ডিসেনট্রি বুঝলেন কীভাবে? বলবে, ‘আমার মলের সঙ্গে সব সময় মিউকাস যায়, আম যায়। পেটে ব্যথা থাকে। আসলে সেগুলো আমাশয় নয়।
তাহলে সেগুলো কী
আরেকটি রোগ রয়েছে যেটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। এটিকে বলা হয় আইবিএস। ইরিটেবল বা উয়েলসিনড্রম। এটা নাড়ি-ভুঁড়ির এক ধরনের ফাংশনাল রোগ। ফাংশনাল রোগ এ জন্য বলছি যে, এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোনো কিছু পাওয়া যাবে না। কোনো ধরনের জীবাণু পাওয়া যাবে না। কোনো ধরনের প্যাথলজি পাওয়া যাবে না। যদি প্যাথলজি পাওয়া না যায় তখন একে আমরা বলি ফাংশনাল রোগ। এ রোগের একটি প্রকৃতি হচ্ছে মাঝে মধ্যে মলের সঙ্গে আম যাওয়া। এটি আইবিএসেরই একটি লক্ষণ। এটি আমাশয় নয়।
আমাশয়ে রক্ত গেলে এবং পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলে করণীয়
এমোবিক আমাশয় থেকে বেসিলারিক আমাশয় জোরালোভাবে হয়। এতে মলের সঙ্গে আম এবং প্রচুর পরিমাণ রক্ত যাবে। পেটে ব্যথা থাকবে, পায়খানা
হবে। অনেক সময় পেটে ব্যথাই হবে তবে পায়খানা
হবে না। অনেক সময় দেখা যাবে রোগীর সিস্টেমিক অন্যান্য রোগের অভিযোগগুলো চলে আসে। যেহেতু আপনি বারবার মলত্যাগ করছেন, বারবার শরীর থেকে পানীয় বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই ফ্লুইড দিতে হবে এটা হচ্ছে এক নম্বর। দ্বিতীয়টি হচ্ছে- পায়খানার কালচার সেনসিটিভিটি করে যেভাবে রিপোর্ট আসে, ওই ভাবে তার অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করতে হবে।
যেখানে কালচার সেনসিটিভিটি করার সামর্থ্য নেই বা রিপোর্ট পেতে রোগীর দুই তিন দিন সময় লেগে যেতে পারে, এতে করে রোগী মারাত্মক পর্যায়ে চলে যেতে পারে, তখন অনুসন্ধান ছাড়া যেই চিকিৎসা আছে, সেটা তাকে দিতে হবে। মূলত আমাশয়ের যে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক সেটা তাকে দিতে হবে। এতে ৯৫ শতাংশের বেশি কাজ হবে।
যদি আপনার এমোবিক আমাশয় হয়ে থাকে তাহলে মেট্রোনিডাজল পছন্দের ওষুধ হতে পারে। বেসিলারিক ডিসেন্ট্রির সঙ্গে এমোবিক ডিসেন্ট্রি কখনও কখনও একত্রে থাকে। এ মিশ্র আমাশয় থাকলে এমোবিক অংশটি মেট্রোনিডাজলে কাজ করবে।
মেট্রোনিডাজল নিজস্ব রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে বাউয়েল বা মলকে শক্ত করে দিতে পারে। অনেক সময় আমাশয় না হয়ে অন্য কিছু হলে মেট্রোনিডাজল তার পায়খানা শক্ত করে দেয়ার গুণ দিয়ে বাউয়েল মুভমেন্ট বন্ধ করে দেয়। রোগী ভাবল, আমার তো রোগ ভালো হয়ে গেছে। যেটা অনেক সময় আইবিএসের বেলায় হয়ে থাকে। তবে কয়েকদিন পর আবার একই রকম হয়ে যায়।
এক-দুই দিন খেয়ে ওষুধ বন্ধ করে দিলে...
সঠিক ব্যবহার, সঠিক ডোজ, সঠিক সময় মেনে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। অন্যথায় অ্যান্টিবায়োটিকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া, রেজিসটেন্স সৃষ্টি হবে। যেখানে যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন সেটা দিতে হবে। যেই পরিমাণে দরকার, সেই পরিমাণে দিতে হবে। যেই স্থিতিকাল ধরে দরকার, সেটি দিতে হবে।
আইবিএসের রোগীদের সমাধান
ইরিটেবল বাউয়েলসিনড্রমকে আইবিএস বলে। এ রোগটি পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদান্তের ফাংশনাল রোগ। এটি কোনো অঙ্গ-প্রতঙ্গের রোগ নয়। প্যাথোলজি করে কিছু পাওয়া যাবে না। এটি কোনো জীবাণু ঘটিত রোগ নয়। এর অর্থ পাকস্থলী ও নাড়িভুঁড়ির যে কর্মগতি সেই গতিতে একটু পরিবর্তন আসে। পরিবর্তন এলে ওই লক্ষণ মিলিয়ে যে রোগটি হয়, একে আমরা আইবিএস বলি। যেমন নাড়িভুঁড়ির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নড়াচড়া। এ নড়াচড়া যদি বেড়ে যায় তাহলে পাতলা পায়খানা হবে। কয়েক ধরনের মুভমেন্ট বা নড়াচড়া আছে। ২৪ ঘণ্টায় একটি বড় নড়াচড়া হয়। ওই বড় নড়াচড়াটি যদি ঠিকভাবে না হয়, তাহলে হয়তো মলত্যাগে সমস্যা হবে। অথবা পাকস্থলীতে যদি সমস্যা হয়, তখন গ্যাস জমা হওয়ার একটি ভাব আসবে। নাড়িভুঁড়ির মাংসপেশিতে সমস্যা হয়ে ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথা পেট ফোলাভাব, পাতলা পায়খানা সব মিলিয়ে আমরা বলি ইরিটেবল বাউয়েলসিনড্রম, আইবিএস।
এ রোগ থেকে মুক্তির উপায়
যার আইবিএস রোগটি রয়েছে সেসব সময় হয়তো এ রোগে ভুগবে না। জীবনে কোনো কোনো সময়ে সে এ লক্ষণগুলোতে ভুগবে। কোনো কোনো খাদ্যাভ্যাসের ফলে এ ভোগান্তি হয়। যে কারণে ভুগবে ওই কারণগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। দেখা যায়, সে ভারী খাবার খাওয়ার কারণে ভোগে। তখন ভারী খাবার খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।
অনেক সময় দুধ খেলে বাড়ে, সেটি কমিয়ে দিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় শাকসবজি, সালাদ এগুলো খেলে সমস্যা হয়। এগুলো খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি হলেও এ সমস্যা হতে পারে। এগুলো কমাতে হবে।
আর কী কারণে ভুগছে এটি বুঝে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। পাতলা পায়খানা হলে, সেটি না হওয়ার জন্য যেই ওষুধ সেটি স্বল্পকালীনভাবে দিতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে সেই জন্য স্বল্পকালীন ওষুধ দিতে হবে। গ্যাস হলে ওষুধ দিতে হবে। নড়াচড়াকে স্বাভাবিক করার জন্য কিছু ওষুধ রয়েছে সেটি চিকিৎসকরা বুঝে-শুনে দেবেন।
রোগী চিকিৎসকের কাছে আসে তিনটি কারণে। প্রথম হল- রোগী ভাবে আমার যে রোগটি হল এ রোগে আমি মরে যাব কিনা? দ্বিতীয়, আমার যে রোগটি হল এতে আমি অথর্বে পরিণত হব কিনা? তৃতীয়, এ রোগ আমাকে ভোগান্তিতে ফেলে দিয়েছে।
এ ভোগান্তি থেকে আমি মুক্তি পাব কিনা? আশার কথা হচ্ছে, আইবিএস রোগটি আপনাকে মৃত্যুর মুখে ফেলবে না। এ রোগের কারণে মানুষ সাধারণত মরবে না। এ রোগে বিছানায় পড়ে যাবে না। তবে মাঝে মধ্যে ভুগবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আরেকটি হল- এই রোগ নিয়ে রোগীর বেশি ভাবতে নেই। রোগ যদি আপনি সব সময় স্মরণ করেন, রোগও আপনাকে বারবার স্মরণ করবে। 

Know why women refrain from exercising


* Weight training will bulk up my body: Male and female bodies differ in many ways. Weight training reacts in different ways for both the body types. Male body produces a hormone called testosterone which is essential if you want to gain size. Good news is that female body does not produce this hormone. So chances of getting bulky if you lift weights are nil. Instead, weight training will help you in toning up.
* I should not work out during menstrual cycle: You can and you should workout during your menstrual cycle. Exercising during your periods will help you in reduced abdominal cramps. When you exercise your body releases feel good hormones “Endorphins”, which keeps your brain calm and makes you feel better. However, avoid doing intensive exercise and skip the abs day. Light Yoga stretches, cardio, swimming, light weight training is recommended.
* More sweating means more weight loss: When you sweat, your body releases water and sodium, due to which you feel that you have lost weight. This illusionary weight loss is only temporary and comes back when you rehydrate yourself. Sweating is a mechanism of body for cool down; don’t count more sweating as more weight loss.
* To get a flat stomach, do a lot of crunches: If you want to lose that stubborn belly fat, you have to hit your abdominal muscles from different angles with intensity. Crunches alone would not help you. To reduce the circumference of your belly, you should train your lower extremities as well. Dead lifts and squats are effective exercises to reduce the belly fat. Along with that you should add a lot of other variations such as twisting movements and leg raises.

Sunday, November 22, 2015

দিনে ছয়ঘণ্টা দাঁড়ালে কমবে ভুঁড়ি !


দিনে অন্তত ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলে স্থুলতার ঝুঁকি কমে যায় প্রায় ৩২ শতাংশ। সমপ্রতি নয়া এক গবেষণায় এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির একদল গবেষক দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাসের সঙ্গে স্থুলতা ও বিপাকীয় ঝুঁকির সম্পর্ক যাচাই করে দেখেছেন। এজন্য গবেষকরা ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সাত হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরীক্ষা চালান। বিশেষ করে দাঁড়িয়ে থাকা ও স্থুলতার সঙ্গে সম্পকের্র বিষয়টি নিয়ে তারা গবেষণা করেন। গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষদের ক্ষেত্রে দিনের এক-চতুর্থাংশ সময় দাঁড়িয়ে কাটানোর ফলে স্থুলতার ঝুঁকি ৩২ শতাংশ কমে যায়। দিনের অর্ধেক সময় দাঁড়িয়ে কাটালে স্থুলতার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ কমে। কিন্তু দিনের তিন-চতুর্থাংশের বেশি সময় দাঁড়িয়ে কাটানোর সঙ্গে স্থুলতার ঝুঁকি কমার কোনো সম্পর্ক দেখেননি গবেষকরা। মহিলাদের ক্ষেত্রে দিনে ৬ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাটানোর সঙ্গে পেটের মেদ কমে যাওয়ার হার যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ, ৪৭ শতাংশ। কিন্তু মহিলা ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিপাকীয় ব্যবস্থার সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

বস্নাড ক্যান্সারে মুখের সমস্যা ওরাল ক্যান্সার


Image result for মুখের সমস্যা pictureওরাল ক্যান্সার সাধারণত স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা জাতীয় হয়ে থাকে। যে সব স্থানে বেশি হয়ে থাকে সেগুলো হলো-ঠোঁট, জিহ্বার পাশের অংশ এবং মুখগহ্বরের উপরিভাগে। ঠোঁটের ক্যান্সার সাধারণত নিচের ঠোঁটে বেশি হয়ে থাকে। নিচের ঠোঁটে ক্রমাগত সূর্যের আলো পড়তে থাকলে এবং যারা সব সময় এবং দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে কাজ করে থাকেন তাদের নিচের ঠোঁট ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। যাদের গায়ের রং সাদা তারা কা্যান্সারের বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। আবার ঠোঁটের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সিগারেট ধরে ধূমপান করলে সে স্থানটিতে ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। অ্যালকোহল সেবন এবং ধূমপান মুখের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। এছাড়া পান, সুপারি, গুল, খৈনিও মুখে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে থাকে। প্রিম্যালিগন্যান্ট লিশন বলতে বোঝায় ক্যান্সারের পূর্বাবস্থার রোগ। প্রিম্যালিগন্যান্ট লিশন বা ওরাল ক্যান্সারের পূর্বরোগগুলোর মধ্যে ইরাইথ্রোপ্লাকিয়া অথবা লেউকোপ্লাকিয়া অন্যতম। লিউকোপ্লাকিয়া সন্দেহজনক হলে বায়োপসি বা কোষ পরীক্ষা করা জরুরি। এইচআইভি ভাইরাস ব্যাপকভাবে বিস্তারের কারণে ওরাল লিস্ফোমা এবং ক্যাপোসিস সারকোমা জাতীয় ক্যান্সার এখন তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। 
মুখের ক্যান্সারের মধ্যে লালাগ্রন্থির টিউমারগুলোর মধ্যে প্লিওমরফিক এডেনোমাই উল্লেখযোগ্য। কিন্তু প্যারেটিড লালাগ্রন্থির চেয়ে সাবলিংগুয়াল এবং সাবম্যান্ডিবুলার লালাগ্রন্থিতেই ক্যান্সার হতে বেশি দেখা যায়। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে লালাগ্রন্থির সবগুলোতেই ক্যান্সারের হার বেশি। ওরাল রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক মানসিক চাপ দেখা যেতে পারে। কথা বলতে সমস্যা বা খাবার গলধঃকরণে সমস্যা দেখা যেতে পারে। তাই ওরাল ক্যান্সার বা যে কোনো ধরণের ক্যান্সারের রোগীদের অবহেলা না করে দ্রুত যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। 


বস্নাড ক্যান্সারে যে ধরণের কোষ বিনাশকারী ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তা ক্যান্সার সেলকে ধ্বংস করে, কিন্তু পাশাপাশি কিছু সুস্থ কোষকেও নষ্ট করে। তাই দেহের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি মুখেরও বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। বস্নাড ক্যান্সারের দাঁতের চিকিৎসার সময় স্থানীয় অবশকারী ইনজেকশন না দেওয়াই ভালো, যদি বেশি রক্তপাতের ঝুকি থাকে তাহলে বস্নাড ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে দাঁত তোলা ঠিক নয়। কারণ এ সময় বেশি রক্তপাত হতে পারে এবং সংক্রমণের দ্বারা অস্টিওমাইলাইটিসও হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বস্নাড ক্যান্সার চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে যদি ডেন্টাল সার্জারি বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে সার্জারির আগে রক্ত পর্যন্ত দেওয়া লাগতে পারে। সার্জারির পর ক্ষত না শুকানো পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত। এন্টিবায়োটিক হিসেবে পেনিসিলিনই ভালো। বস্নাড ক্যান্সার রোগীর মাংসপেশীতে কোনো ইনজেকশন প্রদান করা ঠিক নয়, কারণ এর ফলে হেমাটোমা তৈরি হতে পারে। দাঁতের ব্যথায় অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না। কারণ এমনিতেই মাড়ি থেকে রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। বস্নাড ক্যান্সারে মাঝে মাঝে মাড়ির নির্দিষ্ট অংশ অথবা পুরো মাড়ি ফুলে যেতে পারে। আবার ওরাল মিউকোসা বা মাড়িতে আলসার হতে পারে। বস্নাড ক্যান্সারে মুখে ক্যান্ডিডোসিস হতে বেশি দেখা যায়। হারপেটিক সংক্রমণ কখনো কখনো মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া টনসিল গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে। ম্যান্ডিবল বা নিচের চোয়াল এবং প্যারোটিড লালাগ্রন্থির উপরে ব্যাথাযুক্ত ফোলাভাব হতে পারে। অনেক কোষ বিনাশকারী ওষুধ ওরাল মিউকোসাতে প্রদাহ এবং মাঝে মাঝে মুখে আলসার সৃষ্টি করে থাকে। মুখে মারাত্মক রক্তপাত বিশেষ করে মাড়ির পাশ থেকে হতে পারে রক্তের অনুচক্রিকার পরিমাণ করে গিয়ে। 
এক নজরে বস্নাড ক্যান্সারে মুখের সমস্যা
ক) লসিকাগ্রন্থি বা লিস্ফনোড বড় হয়ে যাওয়া, খ) মাড়ি থেকে রক্তপাত, গ) সংক্রমণ-ক্যান্ডিডোসিস এবং অন্যান্য ফাঙ্গাল সংক্রমণ, ঘ) হারপিস ভাইরাস সংক্রমণ, ঙ) মুখে ঘা বা আলসার সাধারণত হারপিস ভাইরাস এবং ক্যান্সার বিনাশকারী ওষুধের মাধ্যমে হয়ে থাকে, চ) মাড়ি ফুলে যাওয়া 
ছ) ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঃ ১) ওরাল আলসার, ২) শুষ্কমুখ, ৩) পিগমেন্টেশন, ৪) ক্যান্ডিডোসিস। তাই বস্নাড ক্যান্সার রোগীর ক্যান্সারের পাশাপাশি মুখের সমস্যাগুলোর প্রতি যত্মবান হতে হবে।

জায়ান্টসেল টিউমার অব বোন -অষ্টিও ক্লাস্টোমা কি



Image result for টিউমার picture

সারকোমা বা অস্থির ক্যানসার একটি প্রাণহরণকারী ব্যাধি। অষ্টিওক্লাষ্টোমা বা জায়ান্টসেল টিউমার অতীব গুরুত্বপূর্ণ অস্থি টিউমার যাকে বেনাইন/ ক্ষতিকারক শ্রেণীভূক্ত করা হয়েছে। এই টিউমার স্থানীয়ভাবে অপসারণ কিংবা কিউরিটেজ বা পরিষ্কার করার পর আবার দেখা দেয়। শতকরা দশভাগ (১০%) টিউমার পরিষ্কারভাবে "ম্যালিগন্যান্ট" বা প্রাণহরণকারী টিউমারের মত আচরণ করে থাকে এবং রক্তের প্রবাহের মাধ্যমে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। এই টিউমার সাধারণত যুবক যুবতীদের মধ্যে দেখা যায়। 
কেন হয় এবং কিভাবে হয়: সাধারণত কতকগুলো অস্থি আক্রান্ত হওয়ার বিশেষ প্রবণতা "জায়ান্টসেল টিউমারে" দেখা যায়।- যেমন: ফিমারের নীচের অংশ, টিবিয়ার উপরের অংশ, রেডিয়াসের নীচের অংশ এবং হিউমারাসের উপরের অংশ ইত্যাদি। এ সকল লম্বা অস্থির এই অংশগুলোতে সর্বাধিক পরিমানে দৈহিক বর্ধন হয়ে থাকে। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগত কারণে অস্থির এক প্রান্তে আক্রান্ত হয় যেটাকে এপিফাইসিস বলা হয়, সেখান থেকে পাশ্র্বের সন্ধি: বা জয়েন্ট প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এই টিউমার অস্থির গাঠনিক বস্তুসমূহ ধ্বংস করে, নূতন অস্থি তৈরী করে অস্থি আবরণী বা পেরিওষ্টিয়ামকে অস্থি হতে আলাদা করে দূরে সরে দেয়। যার ফলে আক্রান্ত অস্থি মোটা হয়ে বিস্তৃতি লাভ করে। কিছু অস্থি ট্রবিকুলি টিউমারের মাঝে অবস্থান করে আক্রান্ত অস্থিকে প্রাচীরের ন্যায় ভাগ করে। অস্থি নরম হওয়ার কারণে প্যাথোলজীক্যাল ফ্রাকচার হয় বা আক্রান্ত অস্থি ভেঙ্গে যায়। 
হিষ্টোলজীক্যাল পরীক্ষায় টিউমার সেলের মাঝে 'জয়েন্ট সেল' দেখতে পাওয়া যায় যা বিশেষ চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। তবে কেন এটা হয় তা এখনো নিশ্চিত নয়। আংশিক অপসারণ করা হলে 'জায়ান্ট সেলটিউমার' এর পুনরাবৃত্তি ঘটে বা "ম্যালিগন্যান্ট জায়ান্ট সেল" এবং ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে। 
উপসর্গ/লক্ষণ: লম্বা-অস্থির আক্রান্তস্থানে ব্যথাই প্রধান উপসর্গ। তবে আস্তে আস্তে অস্থিপ্রান্ত ফুলে যেতে থাকে। ব্যথা রাতের বেলা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় আক্রান্ত স্থানে আঘাতের ইতিহাস থাকে। টিউমারের উপরিস্থিত চামড়া গরম থাকে। হালকা চাপ দিলে অনেক সময় ডিমভাঙ্গার মত মচমচে শব্দ হতে পারে। আবার হঠাৎ অস্থি ভেঙ্গে গেলে রুগী সহজেই তা অনুধাবন করতে পারে। 
পরীক্ষা-নিরীক্ষা: রক্তের রুটিন পরীক্ষায় ইএসআর বৃদ্ধি দেখা যায় রক্তের পরীক্ষায় সিরাম এসিড ফসফাটেজ বৃদ্ধি ধরা পড়ে। এছাড়া সিরাম ক্যালসিয়াম, সিরাম এলক্যাইন ফসফাটেজ ইত্যাদি পরীক্ষা দ্বারা ব্রাউন টিউমার, মাল্টিপল মাইলোমা প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত কিনা তা স্ক্রিনিং করা যায়। 
এক্সরে: ক্ল্যাসিকাল পর্যবেক্ষণে দেখা যায় -এপিফাইসিসে, বর্ধনশীল বা এক্সপানসাইল, একসেন্ট্রিক বা কেন্দ্রবহির্ভূত টিউমার। প্রথম দিকে 'সোপ বাবল' বা সাবানের ফেনার মতো এবং পরের দিকে 'রেডিওলুসেন্ট টিউমার' সহজেই এক্সরে-তে দৃশ্যমান হয়। আবার অনেক সময় অস্থির কর্টেক্স ভেঙ্গে গেছে তাও ধরা পড়ে; শেষের দিকে এক্সরেতে প্যাথোলজীক্যাল ফ্রাক্চার ধরা পড়ে। 
এমআরআই: টিউমারের পুরাপুরি বিস্তৃতি এমআরআই করলে ধরা পড়ে। 
সিটিস্ক্যান: সিটি স্ক্যান করলে টিউমারের বিস্তৃতি এবং গ্রেডিং করতে সুবিধা হয়। 
বায়োপসি: টিউমারের চরিত্র নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো বায়োপসি। যার মাধ্যমে টিউমারের ধরণ নিশ্চিত হওয়া যায়। 
'জায়ান্ট সেল টিউমার' লম্বা অস্থি ছাড়াও প্যাটেলা, কশেরুকা স্যাক্রাম, পাঁজরের হাড়/ রিব, ক্লাভিকল, চোয়ালের অস্থি প্রভৃতি অস্থিতেও হতে পারে। 
চিকিৎসা: যত রকেমের টিউমার অস্থিতে দেখা যায় তার মধ্যে 'জায়ান্টসেল টিউমার' এর চিকিৎসা সবচেয়ে বিব্রতর। এর প্রধান কারণ হলো- এই টিউমারের অপারেশন পরবর্তী পুনরাবৃত্তির হার খুব বেশী। তাই চিকিৎসার অনেক ধরণের পদ্ধতি আছে। চিকিৎসা নির্ভর করে কোন অস্থিআক্রান্ত, রোগের পর্যায় এবং রোগীর সহযোগিতার উপর। কিছু আক্রান্ত অস্থি কেটে ফেলা যেতে পারে হোক তা আংশিক অথবা সম্পূর্ণ যেমন- জায়ান্টসেল টিউমার অব ক্লাভিকল রিব অথবা ফিবুলা। আবার কিছু অস্থি আছে যা কেটে ফেললে চরম পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। যেমন ফিমার, হিউমারাস, টিবিয়া। তাই চিকিৎসার অপশন নানান ধরণের। নিম্নে সংক্ষেপে কিছু পদ্ধতি তুলে ধরা হলো:
১। শুধু মাত্র কিউরিটেজ: এক্ষেত্র পুনরাবৃত্তির হাড় ৮৫%।
২। কোটা রাইজেশন: কেমিক্যাল অথবা ইলেক্ট্রো কোটারী করা যেতে পারে। 
৩। কিউরিটেজ এন্ড বোন গ্রাফট: এক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির হার (৩০-৪০)%
৪। কিউরিটেজ এন্ড বোন সিমেন্ট: কিউরিটেজ করার পর বোন সিমেন্ট দিয়ে প্যাকিং করা হয়। 
৫। ওয়াইড এক্সিসন: এক্ষেত্রে মেজর জয়েন্ট পর্যন্ত স্যাক্রিফাইস করা হয় এবং প্রোস্থেসিস দ্বারা সন্ধি রিপ্লেজমেন্ট করা হয়। যেমন- হাঁটু- সন্ধি, উরু সন্ধি, স্কন্ধ: সন্ধি ইত্যাদি। 
৬। রেডিও থেরাপী: যে সকল টিউমার কেটে ফেলা যায় না সেক্ষেত্রে রেডিও থেরাপী দেয়া হয়। যার ফলাফল ভাল। 
৭। কেমোথেরাপী: হিউজ মাপের টিউমার কিংবা যে সকল টিউমারের কাছে পৌছা কঠিন সেক্ষেত্রে কেমোথোরী দেয়া যায়। 
তবে রেডিওথেরাপির ঝুঁকি হলো পরবর্তীতে রেডিওথেরাপী ইনডিউসড ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে যে কোন পদ্ধতির চিকিৎসা গ্রহণ করা হোক না কেন আংশিক বা অসম্পূর্ণ অপসারণ কিংবা, আংশিক চিকিৎসা গ্রহণ এই টিউমারের পুনরাবৃত্তির অন্যতম কারণ এবং পুনরায় যে টিউমার দেখা দিবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক, প্রাণনাশকারী ম্যালিগন্যান্ট জায়ান্টসেল টিউমার। তাই এই টিউমারের চিকিৎসা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ 
অর্থোপেডিক সার্জনের কাছে নিতে হবে। নচেৎ জটিলতা বাড়বে।

সাকা ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর

.
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চলে যাচ্ছেন তাঁর স্বজনেরা। ছবি: জাহিদুল করিম
দুটোই মধ্যরাত। একটি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। আরেকটি ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর। প্রথমটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শুরুর রাত। শেষটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা কার্যকরের রাত। মাঝখানে ৪৪ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশ।
দিনভর টানটান উত্তেজনার পর গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে কার্যকর হলো আরও দুই মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী আর আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড। সাকা চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। মুজাহিদফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে মুজাহিদের বাড়ির সামনে পুলিশ ও আর্মড পুলিশের পাহারা। ছবিটি শনিবার রাতে তোলা। ছবি: আলিমুজ্জামান রনি, ফরিদপুর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
এর আগে একই ধরনের সাজা কার্যকর করা হয়েছিল জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের।
কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারাত ২টা ৫১ মিনিট সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়। ছবি: সাজিদ হোসেনরেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি রাতে একই সময়ে (১২টা ৫৫ মিনিট) কার্যকর করা হয়েছে।
ফাঁসির সময় কারাগারের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ফাঁসির সেল থেকে সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদকে তিন-চারজন মিলে ধরেফাঁসির রায় কার্যকরের খবর শোনার অপেক্ষায় কারা ফটকের কাছে গণজাগরণ মঞ্চের কিছু কর্মী। ছবি: জাহিদুল করিম নিয়ে আসেন। তবে দুজনই খুব স্বাভাবিক ছিলেন। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার সময় তাঁরা দোয়া পড়ছিলেন। মঞ্চে ওঠার পর কারা তত্ত্বাবধায়ক লিভার টানার সঙ্গে সঙ্গে দুজনেরই ফাঁসি কার্যকর হয়ে যায়।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (৬৭) বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এরশাদ সরকারের এখানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কবর দেওয়ার কথা রয়েছে। ছবিটি রাত একটায় তোলা। ছবি: সৌরভ দাশ, চট্টগ্রামআমলে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ (৬৮) বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। সাকা চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। মুজাহিদের বাড়ি ফরিদপুরে।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধকালে করা অপরাধ স্বীকার করে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রাত ১০টার দিকে স্বরাশাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উল্লাস। ছবি: শাহাদাত পারভেজষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁদের আবেদন নাকচ করেছেন। তবে সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের ছেলে আলী আহম্মেদ মাবরুর কারাগারে গিয়ে শেষ দেখার পর গণমাধ্যমকে বলেন, দুজনেসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের খবর পেয়ে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উল্লাস। ছবি: শাহাদাত পারভেজর কেউই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি।
এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। গতকাল মুজাহিদের ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে তাঁর দল জামায়াতও দ্বিমত পোষণ করে।
কারাগারে মুজাহিদের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে যাচ্ছেন স্বজনেরা। ছবি: সাজিদ হোসেনকারাগারে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। ছবি: সাজিদ হোসেনসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করছেন তাঁর স্বজনেরা। ছবি সাজিদ হোসেনসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চলে যাচ্ছেন তাঁর স্বজনেরা। ছবি: জাহিদুল করিমসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চলে যাচ্ছেন তাঁর স্বজনেরা। ছবি: জাহিদুল করিমসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চলে যাচ্ছেন তাঁর স্বজনেরা। ছবি: জাহিদুল করিমসালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের খবর পেয়ে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উল্লাস। ছবি: শাহাদাত পারভেজশাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের উল্লাস। ছবি: শাহাদাত পারভেজএখানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কবর দেওয়ার কথা রয়েছে। ছবিটি রাত একটায় তোলা। ছবি: সৌরভ দাশ, চট্টগ্রামফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে মুজাহিদের বাড়ির সামনে পুলিশ ও আর্মড পুলিশের পাহারা। ছবিটি শনিবার রাতে তোলা। ছবি: আলিমুজ্জামান রনি, ফরিদপুরফাঁসির রায় কার্যকরের খবর শোনার অপেক্ষায় কারা ফটকের কাছে গণজাগরণ মঞ্চের কিছু কর্মী। ছবি: জাহিদুল করিমফাঁসির রায় কার্যকরের আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে কড়া নিরাপত্তা। ছবি: সাজিদ হোসেনফাঁসির রায় কার্যকরের খবর শোনার অপেক্ষায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ছবি: শাহাদাত পারভেজফাঁসি কার্যকরের খবর শোনার অপেক্ষায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে সাধারণ জনগণ। ছবি: জাহিদুল করিমফাঁসি কার্যকরের খবর শোনার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণদের নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ। ছবি: সাজিদ হোসেনফাঁসি কার্যকরের খবর শোনার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণদের নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ। ছবি: সাজিদ হোসেনঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয় চট্টগ্রাম ও ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স । ছবি: সাজিদ হোসেনPreviousNextমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম ফাঁসি কার্যকর করা হয় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর। ওই দিন রাত ১০টা ১ মিনিটে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। দ্বিতীয় ফাঁসি কার্যকর হয় চলতি বছরের ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় কামারুজ্জামানের।
গতকাল রাতে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, কারা তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবীর, কারাধ্যক্ষ নেছার আলম, ঢাকার জেলা প্রশাসক তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, ঢাকার সিভিল সার্জন আবদুল মালেক মৃধা প্রমুখ। নিয়মানুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে কারাগারের চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাত ২টা ৪৯ মিনিটে দুজনের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগার থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।
কারাগার সূত্র জানায়, শাহজাহান ও রাজুসহ ছয়জন জল্লাদ সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করতে সহায়তা করেন। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কারাগারের ভেতরে লাশ দুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এরপর গোসল করানো হয়। কাফন পরিয়ে লাশ দুটি কফিনে ভরে গাড়িতে তোলা হয়। মৃতদেহ কারাগার থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন কারা তত্ত্বাবধায়ক। এরপরই লাশবাহী গাড়ি কারাগার থেকে বেরিয়ে যায়।
এর আগে রাত সাড়ে আটটার দিকে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের পরিবারের সদস্যদের দেখা করার জন্য খবর দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। রাত নয়টায় সাকা চৌধুরীর স্বজনেরা কারা ফটকে যান। স্বজনদের মধ্যে ছিলেন সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, দুই ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন সদস্য। প্রায় একই সময়ে মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা কারা ফটকে পৌঁছান। তাঁরা দীর্ঘ সময় ভেতরে সাকা ও মুজাহিদের সঙ্গে কথা বলেন।
সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করতে গতকাল সকাল থেকেই নানা তৎপরতা শুরু করে কারা প্রশাসন। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগেই কারাগারে আসতে থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সন্ধ্যার পর দুটি অ্যাম্বুলেন্স গিয়ে পৌঁছায় কারা ফটকে। সন্ধ্যা থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কমুখী সব কটি পথ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া ওই সড়কে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আশপাশের ভবনগুলোর ছাদেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কারাগারের আশপাশে কয়েক ধাপে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা।
বিজয়ের আগ মুহূর্তে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা হাতে নিয়ে বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা ও গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনী। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়ে সেই আলবদর বাহিনীর অন্যতম নেতা মুজাহিদকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ১৬ জুন সেই ফাঁসির সাজা বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন মুজাহিদ। ১৮ নভেম্বর ওই আবেদনও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ৩৩ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সেই ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরপর ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সাকা চৌধুরী। তবে ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পুনর্বিবেচনার ওই আবেদন খারিজ করে দেন।
জাতীয় রাজনীতিতে বহু বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার জন্ম দেওয়া সাকা চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছয়বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। মুসলিম লীগ থেকে তিনি রাজনীতি শুরু করেন, পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। স্বৈরশাসক এরশাদের সামরিক শাসনামলে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবন, তারপরও বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরা কথার জন্য।
মুক্তিযুদ্ধকালে সাকা চৌধুরী কাজ করেছিলেন পাকিস্তানি দখলদার সেনাদের সহযোগী হিসেবে। তাঁর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন কনভেনশন মুসলিম লীগের সভাপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ফজলুল কাদেরের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার অন্যতম অংশীদার ছিলেন তাঁর ছেলে সাকা চৌধুরী। বাবার নির্দেশ পালন করার জন্য একাত্তরের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতনচন্দ্র সিংহকে তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় হত্যা করেন। এটিসহ চারটি অপরাধে সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এর প্রতিটিতে ফাঁসি বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
২২ নভেম্বর ২০১৫
ফাঁসি
তৃতীয় ও চতুর্থ
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
রাত: ১২.৫৫ মি.
চার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড
ঊনসত্তরপাড়া গণহত্যা
বণিকপাড়ায় গণহত্যা
নূতনচন্দ্র সিংহ হত্যা
শেখ মোজাফ্ফর ও
শেখ আলমগীরকে হত্যা
আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ
রাত: ১২.৫৫ মি.
যে অপরাধে মৃত্যুদণ্ড
মুক্তিযুদ্ধকালে আলবদর বাহিনীর সদর দপ্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহযোগিতা

কাঁচা মরিচের রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা

তরকারিতে স্বাদ বাড়াতে কাঁচা মরিচের জুড়ি নেই। কেউ কেউ আবার খাবারের সময় অতিরিক্ত কাঁচা মরিচ নিয়ে রুচিসহকারে খেতে থাকেন। তাঁদের জন্য আরও সুখ...